Dr. Abu Hena Mohammad Atiquzzaman

Blog Zinest

Blog Zinest

ফ্র্যাকচার ম্যানেজমেন্ট ও ট্রমা

ফ্র্যাকচার ম্যানেজমেন্ট ও ট্রমা চিকিৎসা আধুনিক অর্থোপেডিক চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার মূল লক্ষ্য হলো আঘাতপ্রাপ্ত হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা এবং রোগীকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। ফ্র্যাকচার হতে পারে সাধারণ হাড়ের চিড় থেকে শুরু করে দুর্ঘটনাজনিত জটিল ও বহু খণ্ডিত ভাঙন পর্যন্ত। সড়ক দুর্ঘটনা, পড়ে যাওয়া, খেলাধুলাজনিত আঘাত বা কর্মস্থলের দুর্ঘটনা—সব ক্ষেত্রেই সঠিক ও সময়োপযোগী চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। সম্পূর্ণ ও সঠিক রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে ফ্র্যাকচার ম্যানেজমেন্ট শুরু হয়। শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াও প্রয়োজনে এক্স-রে, সিটি স্ক্যান বা এমআরআইয়ের মাধ্যমে হাড়ের ভাঙনের ধরন, স্থানচ্যুতি, জয়েন্টের সম্পৃক্ততা এবং আশপাশের পেশি, স্নায়ু বা রক্তনালীর ক্ষতি নির্ণয় করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা ও উপযোগী চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। সহজ ও স্থিতিশীল ফ্র্যাকচারের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার ছাড়াই প্লাস্টার, স্প্লিন্ট, ব্রেস বা ট্র্যাকশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়। অন্যদিকে জটিল, অস্থির বা জয়েন্টসংলগ্ন ফ্র্যাকচারের ক্ষেত্রে আধুনিক অর্থোপেডিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। এতে প্লেট, screw, রড বা এক্সটার্নাল ফিক্সেটরের মাধ্যমে হাড়কে সঠিক অবস্থানে স্থির করা হয়, যা দ্রুত ও নিরাপদ হাড় জোড়া লাগাতে সহায়তা করে। ফ্র্যাকচার ও ট্রমা চিকিৎসায় ব্যথা নিয়ন্ত্রণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যথাযথ ব্যথানাশক ও সহায়ক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর স্বস্তি নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন চিকিৎসা হাড়ের শক্তি, নড়াচড়া ও স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঠিক অ্যালাইনমেন্ট, স্থিতিশীল হিলিং ও পরিকল্পিত পুনর্বাসনের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে যেতে পারেন।

Blog Zinest

জয়েন্ট পেইন ও আর্থ্রাইটিস চিকিৎসা

জয়েন্ট পেইন ও আর্থ্রাইটিস বর্তমান সময়ে একটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু কষ্টদায়ক সমস্যা, যা দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত করে। হাঁটু, হিপ, কাঁধ, কনুই ও অন্যান্য জয়েন্টে ব্যথা সাধারণত আর্থ্রাইটিস, দীর্ঘদিনের ক্ষয় (wear and tear), বয়সজনিত পরিবর্তন, আঘাত বা পুরনো ইনজুরির কারণে হয়ে থাকে। সঠিক ও আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা এবং জয়েন্টের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। জয়েন্ট পেইন ও আর্থ্রাইটিস চিকিৎসার প্রথম ধাপ হলো সঠিক রোগ নির্ণয়। রোগীর উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে এক্স-রে, এমআরআই বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যথার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হয়। এর মাধ্যমে বোঝা যায় জয়েন্টে কার্টিলেজ ক্ষয় হয়েছে কিনা, প্রদাহের মাত্রা কতটুকু এবং হাড় বা লিগামেন্টের কোনো ক্ষতি আছে কিনা। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসায় ওষুধের মাধ্যমে ব্যথা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পাশাপাশি জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ব্যায়ামের পরামর্শ দেওয়া হয়। ফিজিওথেরাপি এই চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা জয়েন্টের নড়াচড়া বৃদ্ধি, পেশি শক্তিশালী করা এবং জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে। যেসব রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধ ও ফিজিওথেরাপি পর্যাপ্ত ফল দেয় না, তাদের জন্য জয়েন্ট ইনজেকশন একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। এতে ব্যথা কমে এবং কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন আরাম পাওয়া যায়। তবে যখন জয়েন্ট সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম কঠিন হয়ে পড়ে, তখন সার্জিক্যাল চিকিৎসা বিবেচনা করা হয়। আধুনিক অর্থোপেডিক সার্জারির মাধ্যমে হাঁটু বা হিপ প্রতিস্থাপনসহ বিভিন্ন অপারেশন নিরাপদভাবে করা সম্ভব। সমন্বিত ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে জয়েন্ট পেইন ও আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগীরা ব্যথামুক্ত জীবন ফিরে পেতে পারেন এবং স্বাভাবিক চলাফেরা ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম হন।

Scroll to Top