ফ্র্যাকচার ম্যানেজমেন্ট ও ট্রমা চিকিৎসা আধুনিক অর্থোপেডিক চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার মূল লক্ষ্য হলো আঘাতপ্রাপ্ত হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা এবং রোগীকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। ফ্র্যাকচার হতে পারে সাধারণ হাড়ের চিড় থেকে শুরু করে দুর্ঘটনাজনিত জটিল ও বহু খণ্ডিত ভাঙন পর্যন্ত। সড়ক দুর্ঘটনা, পড়ে যাওয়া, খেলাধুলাজনিত আঘাত বা কর্মস্থলের দুর্ঘটনা—সব ক্ষেত্রেই সঠিক ও সময়োপযোগী চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।
সম্পূর্ণ ও সঠিক রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে ফ্র্যাকচার ম্যানেজমেন্ট শুরু হয়। শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াও প্রয়োজনে এক্স-রে, সিটি স্ক্যান বা এমআরআইয়ের মাধ্যমে হাড়ের ভাঙনের ধরন, স্থানচ্যুতি, জয়েন্টের সম্পৃক্ততা এবং আশপাশের পেশি, স্নায়ু বা রক্তনালীর ক্ষতি নির্ণয় করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা ও উপযোগী চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়।
সহজ ও স্থিতিশীল ফ্র্যাকচারের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার ছাড়াই প্লাস্টার, স্প্লিন্ট, ব্রেস বা ট্র্যাকশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়। অন্যদিকে জটিল, অস্থির বা জয়েন্টসংলগ্ন ফ্র্যাকচারের ক্ষেত্রে আধুনিক অর্থোপেডিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। এতে প্লেট, screw, রড বা এক্সটার্নাল ফিক্সেটরের মাধ্যমে হাড়কে সঠিক অবস্থানে স্থির করা হয়, যা দ্রুত ও নিরাপদ হাড় জোড়া লাগাতে সহায়তা করে।
ফ্র্যাকচার ও ট্রমা চিকিৎসায় ব্যথা নিয়ন্ত্রণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যথাযথ ব্যথানাশক ও সহায়ক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর স্বস্তি নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন চিকিৎসা হাড়ের শক্তি, নড়াচড়া ও স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সঠিক অ্যালাইনমেন্ট, স্থিতিশীল হিলিং ও পরিকল্পিত পুনর্বাসনের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে যেতে পারেন।