Dr. Abu Hena Mohammad Atiquzzaman

জয়েন্ট পেইন ও আর্থ্রাইটিস চিকিৎসা

জয়েন্ট পেইন ও আর্থ্রাইটিস বর্তমান সময়ে একটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু কষ্টদায়ক সমস্যা, যা দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত করে। হাঁটু, হিপ, কাঁধ, কনুই ও অন্যান্য জয়েন্টে ব্যথা সাধারণত আর্থ্রাইটিস, দীর্ঘদিনের ক্ষয় (wear and tear), বয়সজনিত পরিবর্তন, আঘাত বা পুরনো ইনজুরির কারণে হয়ে থাকে। সঠিক ও আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা এবং জয়েন্টের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

জয়েন্ট পেইন ও আর্থ্রাইটিস চিকিৎসার প্রথম ধাপ হলো সঠিক রোগ নির্ণয়। রোগীর উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে এক্স-রে, এমআরআই বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যথার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হয়। এর মাধ্যমে বোঝা যায় জয়েন্টে কার্টিলেজ ক্ষয় হয়েছে কিনা, প্রদাহের মাত্রা কতটুকু এবং হাড় বা লিগামেন্টের কোনো ক্ষতি আছে কিনা।

প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসায় ওষুধের মাধ্যমে ব্যথা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পাশাপাশি জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ব্যায়ামের পরামর্শ দেওয়া হয়। ফিজিওথেরাপি এই চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা জয়েন্টের নড়াচড়া বৃদ্ধি, পেশি শক্তিশালী করা এবং জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে।

যেসব রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধ ও ফিজিওথেরাপি পর্যাপ্ত ফল দেয় না, তাদের জন্য জয়েন্ট ইনজেকশন একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। এতে ব্যথা কমে এবং কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন আরাম পাওয়া যায়। তবে যখন জয়েন্ট সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম কঠিন হয়ে পড়ে, তখন সার্জিক্যাল চিকিৎসা বিবেচনা করা হয়। আধুনিক অর্থোপেডিক সার্জারির মাধ্যমে হাঁটু বা হিপ প্রতিস্থাপনসহ বিভিন্ন অপারেশন নিরাপদভাবে করা সম্ভব।

সমন্বিত ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে জয়েন্ট পেইন ও আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগীরা ব্যথামুক্ত জীবন ফিরে পেতে পারেন এবং স্বাভাবিক চলাফেরা ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top